যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য "এক নম্বর শত্রু" বা প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’। ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদী নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসার প্রবণতা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত পদক্ষেপে তাঁর অনীহার কারণেই এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে সংবাদ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

​গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

​গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয় ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' (সবার আগে আমেরিকা) নীতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক জোটের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

​প্রতিবেদনে প্রধানত যে বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছে:

​ন্যাটো ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা: ট্রাম্পের অতীতে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য এবং ন্যাটোভুক্ত (NATO) মিত্র দেশগুলোর প্রতি তাঁর নেতিবাচক মনোভাব বৈশ্বিক সামরিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

​জলবায়ু ও পরিবেশ: বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে নেওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি (যেমন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি) সম্পর্কে ট্রাম্পের উদাসীনতা এবং সংশয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বের ভবিষ্যৎ পরিবেশের জন্য বড় বিপদ।

​বাণিজ্য যুদ্ধ: এককভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের বিরোধিতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

​বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া

​গার্ডিয়ানের এই বিশ্লেষণ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা এই প্রতিবেদনকে "বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্প কেবল মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করছেন, যা কোনো অপরাধ নয়।

​অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বেশ কয়েকজন শীর্ষ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের নীতি যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার যৌথ প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।