জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
 পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দখল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মো. মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের দাবি করা জমিতে প্রবেশ করে মাটি কেটে জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অশালীন আচরণের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ছয় শতাংশ জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদী আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ের জমিটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। এ জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসন ও আদালত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা মেনে নেব।”
তিনি আরও দাবি করেন, “১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কখনও সামনাসামনি কথাও হয়নি। স্থানীয় লোকজনই বলতে পারবেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
জমির মালিকানা প্রসঙ্গে কাফি বলেন, “যাদের কাছ থেকে আমি জমি কিনেছি, তারা উচ্চ আদালতসহ তিনটি আদালতে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েই প্রায় ছয় শতাংশ জমিতে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করেছি। আমি কোনো জমি দখল করিনি।”
পরিবারের সদস্যদের আসামি করার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমিটি আমার নামে। সেখানে আমার বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও তাদের আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।