পটুয়াখালী সদর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালী সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফারুকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে খেপুপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফারুকের বিরুদ্ধে চাকরিতে নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংক্রান্ত অনিয়ম, দাপ্তরিক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য নিতে গত ৭ জুন পটুয়াখালী সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান ক্রাইম রিপোর্টার মুহাম্মাদ রাকিব। অভিযোগ করা হয়, সেখানে তিনি হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হন।
পরবর্তীতে সাংবাদিক মুহাম্মাদ রাকিব পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহসিন উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব জেলা রেজিস্ট্রার কামাল হোসেনের কাছে অর্পণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পর গত ১৩ জুলাই জেলা রেজিস্ট্রার খেপুপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাঁর মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মুহাম্মাদ রাকিব তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবর্তে বিতর্কিত একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফারুক, তদন্ত কর্মকর্তা কাজী নজরুল ইসলাম এবং জেলা রেজিস্ট্রার কামাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।