আজকের তারিখঃ ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
লগইন
9+
অনলাইন সংস্করণ 3 মিনিটে পড়ুন ARTICLE

বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

দৈনিক বার্তালয় 29 Jul, 2026 • 02:02 PM
ছবি: বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আসামি শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, প্রায় সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ওই সময় থেকেই শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত ২৪ মার্চ পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, গর্ভধারণের পর শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হলে গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওষুধ সেবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সদর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ মুহূর্তে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালতের রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছেনি। আদেশ হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এ মামলার অভিযোগগুলো আদালতে উত্থাপিত হয়েছে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মন্তব্য করুন
দৈনিক বার্তালয়
অনলাইন সংস্করণ • 29 Jul, 2026 • 02:02 PM
বিজ্ঞাপন (Compact)